শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:২৮ অপরাহ্ন
তিশার আবেগঘন কান্নায় হারিয়ে গেলো অনেক শিশুর জীবন।
অনলাইন ডেস্ক
রাজধানীর উত্তরা এলাকায় বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক লাইভে এসে অঝোরে কেঁদে ভেঙে পড়লেন ছোট পর্দার অভিনেত্রী তাসনুভা তিশা। কান্নার অশ্রু ঝরাতে ঝরাতে অভিনেত্রী হৃদয়বিদারক তথ্য জানালেন এবং নিজের আবেগের কথা প্রকাশ করলেন।
তিনি বললেন, “আমিও মানুষ। আমারও ফেসবুকে এসে নিজের অনুভূতি জানানোর অধিকার আছে। যদি একাউন্ট বন্ধও হয়ে যায়, তবুও আমি আমার বেদনা প্রকাশ করবো। কারণ, যারা শিশু মারা গেছে, তাদের জীবন শুরু হয়নি। তারা মাত্র কথা বলতে শিখছিলো, ফুলের মতো ফুটবার আগেই ঝরে গেল।”
তিশা কান্নায় ভেঙে পড়েন এবং জানান, “এত শিশু মারা যাওয়ার পর আর চুপ থাকা যায় না, তাই লাইভে এসেছি।”
এরপর ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “একটা নিউজে দেখলাম, এখন পর্যন্ত শিশু মৃত্যুর সংখ্যা ২২। কিন্তু মাইলস্টোনের শিক্ষার্থীরা বলছে, তারা প্রায় ১০০ লাশ উদ্ধার করেছে। তাহলে কীভাবে মাত্র ২২? প্রত্যেকটি মৃতের হিসাব দিতে হবে।”
অভিনেত্রী আরও জানান, “ঘটনার আগে ‘অ্যানোনিমাস’ নামে একটি দল আগেই সতর্ক করেছিলো। তারা বলেছিলো, এটি পরিকল্পিত। আমি মনে করি, এসব তথ্য ছড়িয়ে আমাদের আসল বিষয়ে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে।”
তিশা বলেন, “আমার তিন সন্তান আছে। আমি জানি আমার সন্তানরা কতটা মূল্যবান। আমি কখনো চাইবো না এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনা আমার পরিবারের সঙ্গে ঘটুক। আমি চাইলে আমার সন্তানকে বুকে নিয়ে কাঁদতে-কাঁদতে ঘুমিয়ে পড়তে পারি, কিন্তু এখন ঘুম আসছে না। মৃত শিশুদের বাবা-মায়ের কথা ভেবে কষ্ট পাচ্ছি। তাই বলছি, যারা সন্তান হারিয়েছে, তাদের শুধু সমবেদনা নয়, আসল দায়িত্বও নিতে হবে।”
রাষ্ট্রের ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “আমরা কোথায় যাচ্ছি? জনবহুল স্থানে যুদ্ধ বিমানের প্রশিক্ষণ কেন দেয়া হচ্ছে? আমরা প্রায় দিয়াবাড়িতে শুটিং করি, তখন অনেক যুদ্ধবিমান আমাদের মাথার ওপর দিয়ে যায়। শব্দের কারণে শুটিং বন্ধ রাখতে হয়। আমি বলছি, এয়ারফোর্স যদি জানে না কোন জায়গা ঝুঁকিপূর্ণ, তা মেনে নেয়া যায় না।”